
মো. সবুজ: ভোলার পূর্ব ইলিশায় ধান রোপণের মজুরি চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. রফিউদ্দিন মাঝি (৩৫) নামে এক শ্রমিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। জমি নিয়ে দুই সৎ ভাইয়ের বিরোধের জেরে পরানগঞ্জ বাজারে তিন দফায় তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এতে তাঁর কোমরের হিপ জয়েন্ট ভেঙে গেছে বলে দাবি পরিবারের। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের পরানগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিউদ্দিন প্রতিবেশী ইমন হাওলাদারের জমিতে ধান রোপণের কাজ করেন। কাজ শেষে ওই দিন বিকেলে মজুরির টাকা চাইতে পরানগঞ্জ বাজারে যান তিনি। এ সময় ইমনের সৎ ভাই সবুজ হাওলাদার তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এ ঘটনার বিচার চাইতে স্থানীয় ব্যবসায়ী কান্টু হাওলাদারের কাছে গেলে ইমন ও সবুজের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে সবুজের নাক ফেটে যায়।
এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে সবুজ হাওলাদার (৩৫), কালাম হাওলাদার (৬০), আমিন হাওলাদার (৩৫) ও রুবেল হাওলাদার (২৫) দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে রফিউদ্দিনের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পরানগঞ্জ বাজারে তাঁকে কয়েক দফায় মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত রফিউদ্দিন ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তমুন্সি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত মিলন মাঝি।
রফিউদ্দিনের মা বাদী হয়ে ঘটনার পর ভোলা সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
রফিউদ্দিন মাঝি বলেন, ‘আমাকে কুকুরের মতো রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে। এতে আমার কোমরের হিপ জয়েন্ট ভেঙে গেছে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছি না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, রফিউদ্দিনকে মারধরের সময় তাঁরা তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীদের সংঘবদ্ধ আক্রমণের কারণে তাঁকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সবুজ হাওলাদার বলেন, ‘রফিউদ্দিনকে ধান রোপণ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে কথা শোনেনি। পরে বাজারে পেয়ে তাকে দুটি থাপ্পড় দিয়েছি। এরপর আমার সৎ ভাই ইমন হাওলাদার তাকে মারধর করে। পরে আমিন হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদারও তাকে পিটিয়ে আহত করেন।’
অভিযুক্ত কালাম হাওলাদার বলেন, তিনি রফিউদ্দিনকে মারধর করেননি। আমিন হাওলাদার ও রুবেল হাওলাদার তাঁকে মারধর করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে সবুজ ও কালামের বক্তব্য পাওয়া গেলেও আমিন ও রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে উক্ত ঘটনাটি তাঁরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করে নিবে। পরে কি হয়েছে তা পুলিশকে জানানো হয়নি।