
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক ধারায় চলতে থাকা এবং জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কিছুটা কমেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ সেন্ট কমে ১০০ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও কমেছে। ব্যারেলপ্রতি ১১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে এটি ৮৯ দশমিক ৩৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানি বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মাসের শেষদিকে টানা চার দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ সংঘাত শুরুর আগের সময়ের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যায়।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ দেখা দিতে শুরু করে। সরবরাহ নিয়ে আগে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের চালান অব্যাহত থাকায় তা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের বড় ধরনের অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
এর পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার ঘটনাও জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছে। তবে এসব নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহন এখনো মোটামুটি সচল রয়েছে।
ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আপাতত কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের দামে। তবে উপসাগরীয় সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর তারা সতর্ক নজর রাখছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকা এবং জরুরি মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল বাজারে আসার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে চাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা