
মনপুরা (উপজেলা) প্রতিনিধি: একসময় ভোলার মনপুরা ছিল দেশের প্রত্যন্ত ও তুলনামূলকভাবে অচেনা এক দ্বীপ। তবে ‘মনপুরা’ সিনেমা মুক্তির পর বদলে যায় দ্বীপটির পরিচিতি। সিনেমার পর্দায় মেঘনার বুকের এই দ্বীপের নদী, কাশবন, নৌকা, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবন উঠে আসায় দেশের মানুষের কাছে নতুন করে পরিচিত হয়ে ওঠে মনপুরা। এরপর থেকেই দ্বীপটিকে ঘিরে বাড়তে থাকে পর্যটকদের আগ্রহ।
সিনেমায় মনপুরাকে উপস্থাপন করা হয়েছে নির্মল প্রকৃতি, নির্জনতা ও আবেগঘন গ্রামীণ জীবনের নান্দনিক প্রতিচ্ছবি হিসেবে। নদীর পাড়, কাশবন, নৌকা ও প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দর্শকদের মনে তৈরি করে আলাদা আকর্ষণ। সিনেমার সেই আবহ বাস্তব মনপুরার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিনেমাটি মুক্তির পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মনপুরায় ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই দ্বীপের প্রতি আগ্রহ বেশি। মেঘনা নদীর বিস্তৃত জলরাশি, সবুজ প্রকৃতি, চরাঞ্চল, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এবং শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।
পর্যটকদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে আবাসন ও নৌযানভিত্তিক বিভিন্ন সেবা। এর ফলে স্থানীয়দের জন্য তৈরি হচ্ছে বিকল্প আয়ের সুযোগ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে মনপুরার স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতাও। বিদ্যুৎ, যোগাযোগব্যবস্থা, চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত আবাসনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট বিনোদনকেন্দ্র, নিরাপদ নৌযানসেবা, উন্নত আবাসন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবও রয়েছে। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও মনপুরার পর্যটন খাত এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল বারী বলেন, “সরকার যদি একটু নজর দেয়, তাহলে মনপুরা কক্সবাজারের মতো বড় পর্যটন স্পট হতে পারে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, মনপুরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সিনেমার মাধ্যমে তৈরি হওয়া পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত পর্যটন উন্নয়ন করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ।
একটি সিনেমা যেমন মনপুরার নামকে দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করেছে, তেমনি সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তব মনপুরাকে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে পারে। সিনেমার পর্দায় যে দ্বীপ মানুষের হৃদয় জয় করেছে, সেই মনপুরা এখন অপেক্ষায়—বাস্তবেও কবে সে হয়ে উঠবে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র।