
মো. মামুন হাজী, লালমোহন: ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দ মৎস্য ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের চাল নিতে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পরও অনেক প্রকৃত কার্ডধারী জেলে চাল না পেয়ে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ভিজিএফের চাল নিতে আসা জেলেরা হাতে টাকা ও স্লিপ নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় চাল নিতে আসা জেলেদের এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতেও দেখা যায়।
জেলেদের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পর একজন ব্যক্তিই তাদের স্লিপে টিপসই নেওয়ার কাজ করছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জেলেদের টিপসই নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ব্যক্তিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত কার্ডধারী জেলেদের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী টিপসই নেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, এসব কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান হাওলাদারের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। তবে চেয়ারম্যানের এমন নির্দেশের বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
একাধিক জেলে অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সহায়তার চাল নিতে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পরও কেউ কেউ চাল পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানালেও সমাধান না পেয়ে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরতে হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এক জেলে বলেন, “সরকার আমাদের জন্য বিনামূল্যে চাল দিয়েছে। অথচ সেই চাল নিতে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এভাবে সরকারি সহায়তা নিতে হলে আমরা গরিব জেলেরা যাব কোথায়?”
চাল বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ জেলেদের দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
জেলেদের দাবি, ভিজিএফের চাল বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, টিপসই গ্রহণের পদ্ধতি, প্রকৃত কার্ডধারীদের চাল না পাওয়া এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশের অভিযোগ—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হয়রানি বন্ধ করে কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই সরকারি বরাদ্দের চাল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।