প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 6, 2026 ইং
বিদ্যুৎহীন মাদ্রাসায় মোমের আলোয় কোরআন পড়ছে ৩০০ শিশু, চুরি হয়েছে ট্রান্সফরমার

জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন (ভোলা): ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর আইচা দারুল উলুম কাওমী মাদ্রাসায় ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও এতিম শিশু বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির ক্ষীণ আলোয় পবিত্র আল-কোরআন মুখস্থ করতে হচ্ছে তাদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা; পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার একটি কক্ষে সারিবদ্ধভাবে বসে মোমবাতির মিটমিটে আলোয় কোরআন মুখস্থ করছে একদল শিশু। কক্ষটিতে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। প্রচণ্ড গরমে ঘামে ভিজে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের শরীর। কয়েকজন শিক্ষার্থী ঠান্ডা, সর্দিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর চালানো যাচ্ছে না। ফলে গোসলখানা ও টয়লেটে পর্যাপ্ত পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। মাথার ওপর ফ্যান থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো বন্ধ।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে মাদ্রাসার পাশে থাকা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকেই মাদ্রাসাসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি জোবায়ের জানান, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নকে অবহিত করা হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, সংসদ সদস্য বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ আইচা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম কাউসার আহমেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি জানার পর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের নির্দেশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কিছু করার সুযোগ নেই বলে ইউএনওকে জানানো হয়েছে। চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারটি পুনঃস্থাপনে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী মোট ব্যয়ের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা জমা দিলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের আওতায় চর আইচা দারুল উলুম কাওমী মাদ্রাসার পাশাপাশি একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি জুমার মসজিদ এবং প্রায় ৩০টি পরিবার রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা না হলে বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ ও ফ্যানের পাশাপাশি পানির সংকটও তাদের দৈনন্দিন জীবন ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে ট্রান্সফরমারটি পুনঃস্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হোক। মোমবাতির আলোয় নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ও নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য দ্রুত বিদ্যুতের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ চ্যানেল ভোলা মিডিয়া লিমিটেড ২০২৬