
পটুয়াখালীর বাউফলে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সাইবার বুলিং। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক এমনকি গৃহবধূরাও বাদ পড়ছেন না এই হয়রানি থেকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নাম, পরিচয়হীন ও ভুয়া (ফেইক) আইডি খুলে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি এই অপপ্রচারের ধরণ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত ছবি ও ফটোশপ করা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। একটি ছবির সাথে অন্য ছবি জুড়ে দিয়ে ভুয়া আইডি থেকে বিভিন্ন গ্রুপ ও ওয়ালে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব পোস্ট ব্যবহার করে আর্থিক দাবি কিংবা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠছে।
সম্প্রতি বাউফলে একজন নারী ও একজন পুরুষ চিকিৎসক এই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। ‘বাউফল বার্তালয়’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাদের নাম ও ছবি জড়িয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন পোস্ট দেওয়া হয়।
এছাড়াও সম্প্রতি স্থানীয় দুইটি প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক এবং এক গৃহবধূকে লক্ষ্য করেও একইভাবে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিকার চেয়ে বাউফল থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও দৃশ্যমান কোনো আইনি সুফল মেলেনি। সাইবার অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত এসব ফেইক আইডি ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সময়মতো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক সমাজের সম্মানিত ও ভদ্র মানুষগুলো হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া না হলে এ প্রবণতা আরও বাড়বে।’
প্রশাসনের পদক্ষেপের বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সাইবার বুলিং ও আপত্তিকর পোস্টের বিষয়ে থানায় কয়েকজন ভুক্তভোগী জিডি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলোর প্রকৃত পরিচয় ও আইপি অ্যাড্রেস শনাক্ত করতে আমাদের তদন্ত কাজ চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’