একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি, উদ্বেগে দক্ষিণ আইচাবাসী
জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচায় দুই রাতের ব্যবধানে চারটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে চর আইচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনসংলগ্ন চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। ঘটনাস্থলটি দক্ষিণ আইচা পল্লি বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে।
এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে চরমানিকা ইউনিয়নের উত্তর চরমানিকা ১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজারসংলগ্ন একটি করাতকলের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি করা হয়। ওই স্থানটি বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে।
করাতকলের মালিক রহিজল সিকদার মাঝী জানান, রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার নামিয়ে নিয়ে যায় চোরেরা। তাঁর দাবি, ট্রান্সফরমারগুলোতে থাকা তামার তার ও কয়েলসহ প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, চোরেরা প্রথমে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমারগুলো নিচে ফেলে দেয়। পরে নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গিয়ে সেগুলোর ভেতরের তামার তার ও কয়েল খুলে নিয়ে যায়।
দক্ষিণ আইচা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা জানান, সকালে বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে একজন গ্রাহক ফোন করলে কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ আইচা পল্লি বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম কাউছার আহমেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির খবর পেয়ে দুটি ঘটনাস্থলই পরিদর্শন করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনসচেতনতার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে চোরচক্রকে শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অল্প সময়ের ব্যবধানে চারটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।