
ঢাকায় এখন চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার স্বর্ণযুগ। দেশের ৪২০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনের মাত্র এত বেড়ে গেছে যে এখন নদী দিয়ে বয়ে চলেছে বিদ্যুতের স্রোত। কিছুদিন পর রাস্তাতেও চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার বহির্বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা না থাকায় রপ্তানিও করা যাচ্ছে না।
তাই সরকার দেড় কোটি নতুন অটোরিকশা চালক নিয়োগ দিয়েছেন ঢাকায়। তাদের কাজ হলো প্রতিদিন বাইরে বের হয়ে আয় রোজগার যাই করুক, অন্তত ৩টি প্রাইভেট কারে ঘষা লাগাতে হবে। এই ঘষার ছবি কিংবা ভিডিও সরকারের একটি সাইটে আপলোড করতে হবে। এটা করতে পারলে তাদের মোবাইলে প্রতিদিন সন্ধ্যায় পৌঁছে যাবে প্রতিদিনের বেতন।
আর যদি কোনো মানুষকে আহত করে সেটার ভিডিও পাঠাতে পারে সেখানেও রয়েছে বোনাস পাওয়ার সুযোগ। আহত করার পর রোগী যদি হাসপাতালে যায় কিংবা মেজর অপারেশন লাগে সেটার জন্য বোনাসের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একইসাথে আহত হয়ে কারও যদি অঙ্গহানি ঘটে তাহলে রয়েছে বিমানে কক্সবাজারে গিয়ে অটোরিকশা চালানোর সুযোগ। সেখানে বিদেশি কারও গায়ের ওপর অটোরিকশা তুলে দিতে পারলে সিঙ্গাপুরে তিন রাত আড়াই দিনের স্পেশাল ট্যুরের সূযোগ থাকছে।
আবার অটোরিকশার আঘাত পেয়ে কেউ নিহত হলে সরকারের তরফ থেকে থাকছে আরও বিশেষ সুবিধা। এরমধ্যে নগদ দেড় লাখ টাকা, সন্তানদেরকে ৯টা করে অটোর মালিকানা, একটা অটো চার্জের পাকা গ্যারেজ, ইউরোপে সাত দিনের ভ্রমণ ও দেশের যেকোনো প্রান্তে অটোরিকশা চালানোর বিশাল সুযোগ।
সরকার অটোরিকশা চালকদের এই সুযোগ দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই প্যাডেল চালিত রিকশা নিষিদ্ধ করেছে। একইসাথে প্রাইভেটকার নিষিদ্ধের জন্য আলোচনাও চলছে নিম্নমহলে। আলোচনা শেষে প্রাইভেট কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত হলে প্রতি মোড়ে মোড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিকদের স্ত্রী, সন্তানদের স্পেশাল ট্রাফিকের চাকরি দেওয়া হবে। তাদের কাজ হবে প্যাডেল রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার আটক করে ডাম্পিং করে অটোচালকদের পথচলা মসৃণ করা।
একইসাথে সরকারের সর্বস্তরের জনবলকে একটি করে অটোওয়াচ চশমা দেওয়া হয়েছে। এটা চোখে লাগালে দুনিয়ার সব দেখা যায় কিন্তু কোনো অটোরিকশা দেখা যায় না। কেবল কোনো অটোরিকশা বিপদগ্রস্থ হলে বিশেষ সিগন্যালে চশমায় ভেসে উঠে লাইভ লোকেশন। যাতে সবাই মিলে সহযোগিতা করতে পারে।
সরকারের একটি মহল জানিয়েছে ইতোমধ্যে বিশেষ সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সরকারি বাহন হিসেবে সড়কপথে কেবল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো হবে। মন্ত্রী ও তদুর্ধ্ব লোকদের জন্য ৩ চাকার সবদিকে নিরাপত্তা বেড়া সম্বলিত অটো সরবরাহ করা হবে। একেবারে নিম্ন স্তরের কর্মচারিদের জন্য দেওয়া হবে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি।
এদিকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানিয়েছে দেশের সব ফ্লাইওভার ও উঁচু ব্রিজগুলোতে উঠা নামার পথকে আরও বেশি ঢালু করতে হবে। কারণ এতো খাড়া পথ বেয়ে অটোগুলো উঠতে পারছে না। মন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের পর জনগণ উৎফুল্ল হয়ে তাকে সংবর্ধনা জানাতে খোঁজে বেড়াচ্ছে।
(স্যাটায়ার কেবলমাত্র বিনোদনের জন্য। এরসাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই)