
খাওয়া-দাওয়ার পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মাথার চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থাইল্যান্ডের একটি বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট ব্যাংককের পিংকলাও এলাকার একটি জনপ্রিয় বারে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণীটি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বারে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে খাবার ও পানীয় গ্রহণের পর তার বিল দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার বাথ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২ লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি।
বারের কর্মীরা যখন বুঝতে পারেন, তরুণীটি বিল না দিয়েই চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন তাকে আটকে দেন। তবে তারা পুলিশে খবর না দিয়ে নিজেরাই বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
এ সময় তরুণীকে তার বকেয়া বিলের একটি অংশ পরিশোধের বিনিময়ে চুল বিক্রির একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তিতে রাজি করানো হয় বলে অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা রঙের স্ট্র্যাপলেস পোশাক পরা ওই তরুণী একটি কথিত ‘হেয়ার পারচেজ কনট্রাক্টে’ সম্মতি দিচ্ছেন।
ভিডিওতে ক্যামেরার পেছনে থাকা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তিনি তরুণীর সুযোগ নিচ্ছেন না এবং এটি চুলের বর্তমান বাজারদর।
এরপর এক বারকর্মী বৈদ্যুতিক রেজর দিয়ে তরুণীর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা কালো চুল কেটে ফেলেন। একপর্যায়ে তার মাথার প্রায় পুরো চুলই কামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেটে নেওয়া চুল বিক্রি বা দান করার কথা ছিল।
ঘটনাটি নিয়ে থাইল্যান্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দেশটির সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে ঘটনাটি তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি পুলিশের কাছে দেওয়া উচিত ছিল।
কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, একজন গ্রাহকের কাছ থেকে বকেয়া বিল আদায়ের জন্য এভাবে তার চুল কেটে নেওয়া আইনগত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনলাইনে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, পুলিশি বা ফৌজদারি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার বদলে ওই তরুণী তুলনামূলক কম শাস্তি পেয়েছেন।
অন্যদিকে অনেকে বারকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন। একজন লিখেছেন, বারের বকেয়া বিল নিয়ে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। তার মতে, বিল নিয়ে বিরোধ হলে পুলিশকে যুক্ত করা উচিত।
আরেকজন মন্তব্যকারী বলেন, বারকর্মীরা সম্ভবত এ ধরনের পরিস্থিতি আগেও সামলেছেন। তিনি দাবি করেন, তরুণীর কাছে সোনা বা অন্য মূল্যবান জিনিস না থাকায় তার চুলকেই মূল্যবান সম্পদ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
আরেকজন সরাসরি পুলিশকে না ডাকার সমালোচনা করে ঘটনাটিকে হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি