
দক্ষিণাঞ্চলে লেবুর মৌসুমি সংকট ও বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সারা বছর ফলন দেওয়া উপযোগী বিনা-১ সিডলেস বারোমাসি লেবু জাতের চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় চলতি বছর ৬ হাজার চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)।
বিনা সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের রহমতপুর উপকেন্দ্রে বিনা-১ জাতের লেবু গাছে একই সঙ্গে ফুল, মুকুল ও বিভিন্ন বয়সের ফল দেখা যাচ্ছে। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
চলতি বছর বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা জেলায় ৬ হাজার চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ১০টি প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে ৫০টি করে চারা ও প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বিভাগের অন্যান্য জেলার কৃষকদের মধ্যেও চারা বিতরণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কৃষকদের কাটিং ও কলম পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের কৌশল শেখানো হচ্ছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের জমিতে চাষের পাশাপাশি অন্য কৃষকদের মধ্যেও এ জাতের চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর আগে গত বছরও ৫ হাজার বিনা-১ জাতের লেবুর চারা বিতরণ করা হয়েছিল।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানসহ বিভিন্ন সময়ে লেবুর চাহিদা বেড়ে গেলে সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজারে দামও বেড়ে যায়। সারা বছর উৎপাদন সম্ভব হলে মৌসুমি সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। একই গাছে বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসায় বারোমাসি এ জাতটি কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন তারা।
বিনা রহমতপুর উপকেন্দ্রে বিনা-১ লেবুর চারা উৎপাদনের জন্য মাতৃগাছের বাগান করা হয়েছে। সেখান থেকে কলম ও কাটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের পর তা বিভাগের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাষাবাদ ও পরিচর্যা বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, বিনা উদ্ভাবিত বিনা-১ বারোমাসি লেবুর জাত নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও কাজ করছে। এ জাতের চাষ বাড়ানো গেলে কৃষকরা বছরের বিভিন্ন সময়ে লেবু উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারবেন। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে লেবুর সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে।
বিনার বরিশাল উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, ‘বিনা-১ সিডলেস বারোমাসি লেবু এমন একটি জাত, যাতে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল পাওয়া যায়। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে সারা বছর লেবু উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।’
তিনি বলেন, মৌসুমি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের লাভবান করার লক্ষ্যেই এ জাতের চারা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, দক্ষিণাঞ্চলে বিনা-১ লেবুর চাষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সারা বছর স্থানীয়ভাবে লেবুর সরবরাহ বাড়বে। এতে চাহিদা বৃদ্ধির সময়ে সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ তৈরি হবে।