
ইব্রাহিম আকতার আকাশ: দীর্ঘদিনের দাবির পর ভোলা-ঢাকা নৌপথে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ‘বেগম রোকেয়া’ নামের একটি ফেরি ১৩টি ট্রাক নিয়ে ভোলার ইলিশা ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম মুহাম্মদ তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ফেরিটি ইলিশা ঘাট ছাড়ে। পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় ভোলা-ঢাকা নৌপথের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় নৌপথের নাব্যতা, দূরত্ব, যাতায়াতে প্রয়োজনীয় সময় এবং ঢাকায় ফেরিটি কোন ঘাটে ভেড়ানো হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বেশি সুবিধা হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। সাত দিন পরীক্ষামূলক চলাচল শেষে এসব বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। একই সঙ্গে ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে।
পরীক্ষামূলক ফেরির দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ চ্যানেল ভোলাকে বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা-ঢাকা নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিআইডব্লিউটিসি নতুন ফেরি তৈরি করেছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য ঘাট পরিদর্শন, নৌপথের দূরত্ব ও সময় নির্ধারণসহ প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাঁচ সদস্যের কমিটিতে আরও রয়েছেন সহকারী মহাব্যবস্থাপক খান মো. জাফর খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মাওলা, উপপরিচালক মাসুদুল হক এবং ব্যবস্থাপক মো. আল-আমিন।
এদিকে প্রায় তিন বছর আগে ব্যক্তি মালিকানায় ভোলা-ঢাকা নৌপথে যাত্রীবাহী ফেরি ‘কার্নিভাল ক্রুজ’ চালু হয়। তবে ওই ফেরিতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গ্যাসের ট্যাংকার পরিবহনের অভিযোগ তুলেছেন ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির নেতারা। তাদের দাবি, বর্তমানে ওই ফেরিতে প্রতিদিন প্রায় ১২টি গ্যাসবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে।
তাদের তুলনায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হতে যাওয়া ‘বেগম রোকেয়া’ ফেরিতে একসঙ্গে কমপক্ষে ২৫টি গাড়ি পরিবহনের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে নিয়মিতভাবে সরকারি ফেরি সার্ভিস চালু হলে ভোলা থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি ফেরির পরীক্ষামূলক চলাচলের খবরে ভোলার পরিবহন মালিক সমিতির নেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে দ্রুত নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে। এতে ভোলা থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন সহজ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে এবং পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে প্রথম ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। বর্তমানে ওই রুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোলা-ঢাকা নৌপথে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল সফল হলে এটি শুধু পণ্য পরিবহনেই নয়, দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। বিশেষ করে ভোলার কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় শিল্পের পণ্য সরাসরি রাজধানীর বাজারে দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এখন পরীক্ষামূলক সাত দিনের কার্যক্রম শেষে বিআইডব্লিউটিসির প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন ভোলার ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও সাধারণ মানুষ। সরকারি এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত নিয়মিত ফেরি সার্ভিসে রূপ নেয় কি না—সেটিই এখন দেখার বিষয়।