
মো. মামুন হাজী, লালমোহন (ভোলা): ভোলার লালমোহনে দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে এক দুধ বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক মো. জামাল পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে এক দুধ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক জামাল পাটোয়ারী। একপর্যায়ে তিনি ওই বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলে দেন। এ সময় ঘটনাটি দেখতে আশপাশে বেশ কয়েকজন মানুষ জড়ো হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুধে ভেজাল বা পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে একজন সাধারণ মানুষের মাথায় দুধ ঢেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনাটিকে অপমানজনক ও অমানবিক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লালমোহনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক মো. জামাল পাটোয়ারী বলেন, বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কসাইখানা পরিদর্শনে যান। পরে তিনি দুধ বিক্রেতাদের দুধ পরীক্ষা করতে বলেন। লালমোহন ইউনিয়নের ফুলবাগিচা এলাকার দুধ বিক্রেতা মঞ্জুর দুধ পরীক্ষা করে তাতে পানি মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় মঞ্জু দুধ রেখে পালিয়ে যান।
জামাল পাটোয়ারী আরও বলেন, তাকে না পেয়ে সেনেটারি ইন্সপেক্টর নজরুলকে সেখানে রেখে ইউএনও পুনরায় কসাইখানায় চলে যান। এর মধ্যে মঞ্জু ফিরে এসে ওই দুধ বিক্রি শুরু করেন। বিষয়টি সেনেটারি ইন্সপেক্টর নজরুল মোবাইল ফোনে তাকে জানান। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হন।
তার ভাষ্য, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে বলেন, যেহেতু মঞ্জুর দুধে পানি পাওয়া গেছে এবং তিনি আবারও সেই দুধ বিক্রি করছেন, তাই তার মাথায় দুধ ঢেলে দেওয়া উচিত। পরে উপস্থিত লোকজনের অনুরোধেই মঞ্জুর মাথায় তার পানি মেশানো দুধ ঢেলে দেন তিনি।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, “দুধ বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলেছে—এ বিষয়টি আমার কিছুই জানা নেই। আপনাদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনলাম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।