ভোলা প্রতিনিধি:ভোলা সদর উপজেলায় মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, পুষ্টি এবং ইতিবাচক অভিভাবকত্ব বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন (SBC)’ প্রকল্পের আওতায় সুশীলনের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
প্রশিক্ষণে ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টস ও সচেতন অভিভাবকরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জনসম্পৃক্তকরণ, সামাজিক জবাবদিহিতা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশু সুরক্ষা এবং ইতিবাচক অভিভাবকত্ব বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের যত্ন, শিশুর টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
অভিভাবকদের শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শারীরিক ও মানসিক শাস্তি পরিহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শিশুর জন্য পরিবারে নিরাপদ, সহায়ক ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণে পরিবার, কমিউনিটি, জনপ্রতিনিধি ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে ‘Parent Education Package’ দেওয়া হয়, যা পরিবার ও কমিউনিটিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে বলে জানান আয়োজকরা।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. সজীব রহমান ও ট্রেনিং অ্যান্ড মনিটরিং অফিসার মারুফা সুলতানা। প্রশিক্ষণের মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভোলা সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট অফিসার মো. পলাশ মোড়ল।
তিনি বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই এর উদ্দেশ্য পূরণ হবে না; প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ পরিবার ও কমিউনিটিতে কাজে লাগাতে হবে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশুদের সুস্থ বিকাশ এবং ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা জোরদারে চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসরা নিজ নিজ পরিবার ও কমিউনিটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা গ্রহণে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক জবাবদিহিতা জোরদারেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।