
ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল রক্ত প্রয়োগের অভিযোগে রোগীর মৃত্যু ও গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল কিংবা রক্ত দেওয়ার আগে সঠিকভাবে ক্রস-ম্যাচিং না করাই এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। নিয়ম মেনে রক্ত পরীক্ষা ও সঞ্চালন না করা হলে রোগীর শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, শুধু রক্তের গ্রুপ মিললেই রোগীকে রক্ত দেওয়া নিরাপদ নয়। রক্ত সঞ্চালনের আগে রোগীর আদৌ রক্তের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণের পাশাপাশি রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এবং সঠিক ক্রস-ম্যাচিং করা জরুরি।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো ক্রস-ম্যাচিং। রোগীর রক্তের সঙ্গে দাতার রক্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত না করে রক্ত দেওয়া হলে শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কখনো রক্তের গ্রুপ একই হলেও অন্য অ্যান্টিবডি বা সামঞ্জস্যজনিত কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু এ, বি, এবি কিংবা ও গ্রুপ মিলেছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে রক্ত দেওয়া নিরাপদ নয়।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত স্থিতিশীল প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর হিমোগ্লোবিন ৭ শতাংশের নিচে হলে রক্ত সঞ্চালনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, জটিল অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সঞ্চালনের সিদ্ধান্ত নেন।
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহের পর শুধু গ্রুপ পরীক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। দাতার রক্তে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইচআইভি ও সিফিলিসসহ বিভিন্ন সংক্রমণের পরীক্ষা করাও জরুরি।
পরীক্ষা ছাড়া পরিচিত ব্যক্তি, আত্মীয় কিংবা কাছের কারও কাছ থেকে রক্ত পাওয়া গেলেও তা সরাসরি রোগীর শরীরে দেওয়া উচিত নয় বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের মতে, রোগীর শরীরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ রক্ত প্রবেশ করলে জ্বর, কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিডনির জটিলতা এবং তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
এ কারণে রক্ত দেওয়ার আগে রোগীর পরিচয়, রক্তের গ্রুপ, দাতার রক্তের নমুনা এবং ক্রস-ম্যাচিংয়ের ফলাফল সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ভোলার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্ত সঞ্চালন একটি জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা হলেও সামান্য ভুলও রোগীর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা থেকে শুরু করে ক্রস-ম্যাচিং এবং সংক্রমণ পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপেই সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন।
রক্ত দেওয়ার আগে সঠিক পরীক্ষা ও ক্রস-ম্যাচিং নিশ্চিত করাই পারে ভুল রক্ত সঞ্চালনের ঝুঁকি কমাতে এবং রোগীর জীবন রক্ষা করতে।