
শিহাব আহমেদ, চরফ্যাশন: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভোলার চরফ্যাশনে আমন মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। নিচু এলাকার অধিকাংশ আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার শত শত কৃষক।
উপজেলার হাজারীগঞ্জ ও চরফকিরা ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও আবার নতুন করে ধানের বীজ ছিটানো চলছে। সময়মতো আমনের আবাদ নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে নিরলস পরিশ্রম করছেন কৃষকরা।
কৃষক মো. সিরাজ পাটওয়ারী বলেন, টানা বৃষ্টিতে তার আগের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করে আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান কৃষক মো. জসিম ও মো. সুমন। তারা বলেন, আষাঢ় মাসজুড়ে টানা বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এখন শ্রাবণের শুরুতে এসে নতুন করে জমি প্রস্তুত করতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী ফসলের উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরফ্যাশনে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১৭০ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে প্রায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত জমির পানি নিষ্কাশন, নতুন বীজতলা তৈরির পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়লেও নতুন উদ্যমে মাঠে ফিরেছেন চরফ্যাশনের কৃষকরা। তাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নতুন বীজতলা থেকেই আবারও সোনালি ধানের স্বপ্ন বাস্তব হবে।