প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 25, 2026 ইং
ভোলায় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা গেলেন মা, অঝোরে কাঁদছে স্বামী ইসমাইল

ইব্রাহিম আকতার
আকাশ:
হাসপাতালের করিডোরে বসে বারবার চোখ মুছছিলেন ইসমাঈল মিস্তিরি। কিছুক্ষণ পরপরই স্ত্রীর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে ভেঙে পড়ছিলেন কান্নায়। তাঁর কণ্ঠে শুধু একটাই প্রশ্ন—“এখন
আমি কী নিয়ে বাঁচব?”
ভোলার
এক সাধারণ পরিবারের মানুষ ইসমাঈল। প্রায় ১৬ বছর আগে
মোসা. নিরুতাজ বেগমের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল তাঁর সংসার। সুখ-দুঃখ, অভাব-অনটন সবকিছুই একসঙ্গে সামলেছেন দু'জনে। সেই
সংসারে একসময় জন্ম নেয় কন্যা তানহা। কিন্তু আড়াই বছর বয়সেই পানিতে ডুবে মারা যায় শিশুটি। সেই শোক কাটিয়ে আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন তারা।
পরে
জন্ম নেয় ছেলে জিহাদ হোসেন। বর্তমানে ১০ বছর বয়সী
জিহাদ ঢাকার একটি হাফিজা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। পরিবারে আবারও নতুন অতিথি আসার অপেক্ষা ছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা পরিণত হলো জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিতে।
পরিবারের
সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা
৭টার দিকে নিরুতাজ বেগমের প্রসবব্যথা শুরু হয়। প্রথমে বাড়িতেই স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বোঝা যায় গর্ভের শিশুর অবস্থান স্বাভাবিক নয়। পরে দ্রুত তাঁকে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠান।
বরিশালে
চিকিৎসকেরা জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মৃত নবজাতককে বের করেন। তবে সেখানেই শেষ হয়নি বিপদ। নিরুতাজ বেগমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-এ ভর্তি করা
হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর
সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার ভোররাতে
তিনি মারা যান।
স্ত্রীর
মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইসমাঈল। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, “আমার ছোট মেয়েটা আগেই চলে গেছে। এবার যে সন্তান পৃথিবীর
মুখ দেখবে বলে অপেক্ষা করছিলাম, সেও বাঁচল না। শেষ পর্যন্ত আমার স্ত্রীও আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?”
স্বজনরা
জানান, নিরুতাজ ছিলেন সংসারের প্রাণ। পরিবারের সবার প্রতি ছিল তাঁর অগাধ মমতা। তাঁর মৃত্যুতে শুধু স্বামী-সন্তান নয়, পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
একই
ঘটনায় সন্তান ও মাকে হারানোর
এই মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায়ও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। যে পরিবারটি নতুন
অতিথিকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই পরিবারকে এখন ফিরতে হচ্ছে দুটি মৃত্যুর অসহনীয় বেদনা বুকে নিয়ে।
ইসমাঈলের
অশ্রুসিক্ত চোখ যেন একটাই কথা বলছিল—জীবনের
কিছু শূন্যতা কখনোই পূরণ হয় না।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ চ্যানেল ভোলা মিডিয়া লিমিটেড ২০২৬