
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশনের একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে উপকূলভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস ফর কোস্টাল পিপল (আরসিপি)।
সংগঠনটি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
আরসিপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও সংগঠনটির নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও কোন্দলের প্রভাব সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ছে। এর ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে কিছু শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংগঠনটির দাবি, গত ১১ জুলাই পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ওই ঘটনা ঘটেছে।
আরসিপি আরও অভিযোগ করে, পরীক্ষাকেন্দ্রে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদ করার পর শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। এতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সংগঠনটি ঘটনাটিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
বিবৃতিতে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পরীক্ষাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় আরসিপির চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক বলেন, “চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পর্যবেক্ষণ করব প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আমরা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরীক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।