
চ্যানেল ভোলা:
ভোলার চরনোয়াবাদ এলাকায় জায়গা
জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন ও তার পরিবারের
উপর হামলা, মারধর ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের
অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মোসলেউদ্দিন ও মিরাজ গংদের
বিরুদ্ধে। এতে চরম আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী
পরিবারটি।
জানা
গেছে, ভোলা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের
উত্তর চরনোয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা লোকমান হোসেন তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্নভাবে বসবাস করে আসছেন। অপর দিকে একই জমির খতিয়ানে প্রতিবেশী মোসলেউদ্দিন গংরা ৬০ শতাংশ জমি
ক্রয় করে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, মোসলেউদ্দিন গংরা ৬০ শতাংশ জমি
ক্রয় করে ৯০ শতাংশ জমি
ভোগদখলে নেন। এতে লোকমান হোসেনের জমি জোরপূর্বক দখল করে তাকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেন মোসলেউদ্দিন গংরা।
এদিকে,
অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ জমি
জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ এনে লোকমান হোসেন গংরা আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন
রয়েছে। জমি বিরোধ ও চলমান মামলাকে
কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় একাধিকবার হামলা, মারধর ও সংঘর্ষের ঘটনাও
ঘটেছে।
ভুক্তভোগী
লোকমান হোসেন জানান, গত ২৪ এপ্রিল
শুক্রবার দুপুরে তিনি তাদের ভোগদখলীয় জমির পুকুরপাড়ে পাইলিংয়ের কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ মোসলেউদ্দিন ও তার ছেলে
মিরাজ হোসেন এতে বাধা দেন। এ সময় তিনি
প্রতিবাদ করলে মিরাজ, শরিফ, সাখাওয়াত, নাজমীনসহ কয়েকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়। হামলায় তিনি মুখের চোয়াল, ও মেরুদণ্ডে গুরুতর
আঘাত প্রাপ্ত হন।
লোকমান
হোসেনের অভিযোগ, তারা হত্যার উদ্দেশ্য তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী তাসনুর বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারধর করা হয়, যার ফলে তার কোমর ও মেরুদন্ডে গুরুতর
জখম হয়। পরে তারা ঘরে ঢুকে হামলা ও ভাংচুর করে।
এরপর স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠালে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়।
এই
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তাসনুর
বেগম বাদী হয়ে ভোলা আদালতে ৪ জনের নাম
উল্লেখ করে একটি সিআর মামলা (মামলা নং-৬৩২/২০২৬ইং)
দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, মো. শরিফ (৩০), মো. সাখাওয়াত (৩৫), মো. রিয়াজ ওরফে মিরাজ (৪০) এবং নাজমীন সুলতানা (৪৫)। আদালত
এই মামলায় ওয়ারেন্ট বা গ্রেফতারি পরোয়ানা
জারি করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
ভুক্তভোগী
পরিবারের অভিযোগ, তাদের উপর হামলা করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উল্টো তাদের নামে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন অভিযুক্ত মিরাজ। মামলায় লোকমান, হাবিব ও তাসনুরসহ ৫
জনকে আসামী করা হয়। পরে পুলিশ লোকমান ও হাবিবকে গ্রেফতার
করেন। এরপর লোকমানের অসুস্থতায় তাকে ছেড়ে দিয়ে হাবিবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান।
লোকমান
হোসেনের স্ত্রী তাসনুর বেগম বলেন, মোসলেউদ্দিন ও মিরাজ গংরা
প্রভাবশালী হওয়ায় এবং স্বজনরা পুলিশে চাকরি করার ক্ষমতা দেখিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ''আমাদের মেরে উল্টো আমাদের নামে মামলা করে আমাদের লোকদের গ্রেফতার করিয়ে হয়রানী করছে। এসবই ক্ষমতাদ দাপট দেখিয়ে করছেন তারা। তাদের ভয়ে আমরা আতংকিত হয়ে আছি। আমরা এই অত্যাচার থেকে
বাঁচতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের
জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
তবে
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মোসলেউদ্দিন ও মিরাজ হোসেন
বলেন, "আমরা পৈতৃক সূত্রে ৯০ শতাংশ জমি
ক্রয় করে ভোগ দখলে আছি। আদালত থেকে ৬৮ শতাংশ জমির
রায় এসেছে। বাকীর জমির জমিও তাদের দখলে রয়েছে সেটাও খুব শীঘ্রই রায় হবে বলেও জানান তারা।
এছাড়াও
তাদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও লুটপাটের সব
অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে
দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, উল্টো লোকমান, হাবিব ও তাসনুর বেগম
তাদের পরিবারের ওপর হামলা করায় তারা ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।