
মো. সবুজ/মো. শিহাব আহমেদ: স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র আশ্রয় ছিল তার রেখে যাওয়া ভিটেমাটি। সেই সম্পত্তি আঁকড়ে ধরে সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন রহিমা বেগম। কিন্তু সেই ভিটা রক্ষার লড়াইয়ে এবার তাকে হাসপাতালের বিছানায় যেতে হয়েছে। ভোলার চরফ্যাশনে সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে তাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে তার বাম হাত ও বুকের একটি হাড় ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। বর্তমানে তিনি চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত কালাম মাঝি স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে রহিমা বেগম সন্তানদের নিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে বসবাস করে আসছেন। পরিবারের অভিযোগ, ওই সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে কালাম মাঝি বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, বুধবার সকালে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়ির নারিকেল পাড়তে গেলে কালাম মাঝি তার ছেলে জাকির, জিহাদ ও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রহিমা বেগমের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার বাম হাত ও বুকের একটি হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় কাতরানো মাকে দেখিয়ে রহিমা বেগমের ছেলে আল আমিন বলেন, "বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এই সম্পত্তিই আমাদের শেষ সম্বল। সেটি দখল করতে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। বুধবার আমার মা শুধু নারিকেল পাড়তে গিয়েছিলেন। তখন তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, "খবর পেয়ে গ্রাম্য পুলিশ পাঠানো হয়। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, রহিমা বেগমকে মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে।"
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কালাম মাঝির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, "ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আহত নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।