
চ্যানেল ভোলা:
সারাদেশে টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও
এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে
পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ দেশের সাধারণ জনগণেরও তোপের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন
ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার
(১৪ জুলাই) মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। রাজধানীর সাইন্সল্যাবে একাধিক দাবি নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এরইমধ্যে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে শোনা যায় একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সেখানে
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো
ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’
বিষয়টি
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তীব্র
ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
জানা
যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। সেই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের
সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে
এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত
হওয়া গেছে।
মূলত
মেয়েকে অভয় দিতেই ওই ছাত্রীর অভিভাবক
অনুরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানোর ব্যবস্থা করেন। মোবাইলে কথা বলার সময় অন্য আরেকটি মোবাইল ফোন দিয়ে পুরো কথোপকথনটির ভিডিও করা হয়। সেই ভিডিওটি এখন সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
কথোপকথনে
শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন
বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি।
একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা
দিতে পারবে না এরা।’
তিনি
আরও বলেন, ‘আমি পরীক্ষা
স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।’
এরপর
ওই ছাত্রী মন্ত্রীকে বলেন, ‘কিন্তু স্যার
যাদের জ্বর হয়ে গেছে, আমরা তো সিটি কলেজের
স্টুডেন্ট, যারা পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার দিনে বৃষ্টিতে ভিজেছি, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।’
শিক্ষামন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা ৫টা
পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি
রাজি ছিলাম...অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম। যাই হোক তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। আশা করি ভালো হবে।’
পরীক্ষার
রুটিন নিয়েও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। তিনি
বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র
পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে
একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার?
একদিনে কি এতগুলো চ্যাপ্টার
রিভাইস করা পসিবল স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে...যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’
জবাবে
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে
বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য
না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করব। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো
রেসপন্স করেনি।’
তিনি
যোগ করেন, ‘এমনিতেই তো
রুটিন করা হচ্ছিল যে সকাল-বিকেল
পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করবে। যেটা আমরাও ছাত্রজীবনে দিয়েছি। তখন আমি বললাম যে, এটা সম্ভব না। ওরা পারবে না, কষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত একদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হোক। সেটাই এখন নেওয়া হচ্ছে। আমি সবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছি। এগুলো বলে আর লাভ হবে
না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। নো বডি একসেপ্ট
মি, যে পরীক্ষা পেছানোর
ব্যাপারে। তুমি তো সিটি কলেজ।
চিন্তা কইরো না তো। এখন
গরম এক কাপ কফি
দিতে বলো, খেয়ে পড়তে বসে যাও।’
ভাইরাল
ভিডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী
ড. আ ন ম
এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে
একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।