
মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা): টানা বর্ষণ থেমে গেলেও ভোলার মনপুরা উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। জলাবদ্ধতার নবম দিনেও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, উঠান ও ফসলি জমি
পানির নিচে থাকায় কৃষক, শ্রমজীবী, শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা চরম
ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে খাল দখল করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে
দেওয়ায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং মানুষের সৃষ্টি করা একটি কৃত্রিম সংকট।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণের ফলে উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের ঘের ও পুকুর। এতে
কৃষক ও মৎস্যচাষীরা বড়
ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর
ভাষ্য, অবৈধভাবে খাল দখলের বিষয়ে তারা গত বছর উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো খালগুলো দখলমুক্ত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
এক
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, “আজ প্রায় নয় দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। আমাদের বাড়িঘর, পুকুর ও ফসলি জমি পানির নিচে। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
আরেক
বাসিন্দার অভিযোগ, “জলাবদ্ধতার নবম দিনেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেননি।”
সবচেয়ে
হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরে এক অসহায় ব্যক্তি
বলেন, “নয় দিন ধরে আমার চুলায় আগুন জ্বলেনি। এই কয়েক দিনে ঠিকমতো খাবারও জোটেনি। ঘর থেকে বের হওয়ারও উপায় নেই। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো খাদ্য সহায়তা পাইনি।”
জলাবদ্ধতার
কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ
বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত
এলাকাবাসী অবৈধভাবে দখল হওয়া খাল দ্রুত উদ্ধার, পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং পানিবন্দি পরিবারের জন্য জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তা
নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।